রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
অপরাধ, প্রধান সংবাদ হোটেল বয় থেকে অপরাধ জগতে পাগলা মিজান: অবৈধ আয়ের টাকায় টেক্সাসে বাড়ি।

হোটেল বয় থেকে অপরাধ জগতে পাগলা মিজান: অবৈধ আয়ের টাকায় টেক্সাসে বাড়ি।


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/১৪/২০১৯ , ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,প্রধান সংবাদ


হোটেল বয় থেকে অপরাধ জগতে পাগলা মিজান: অবৈধ আয়ের টাকায় টেক্সাসে বাড়ি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের মাসিক সম্মানী মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ভাতা যোগ হয় ১২ হাজার টাকা।

এছাড়া তার বৈধ আয়ের অন্য কোনো উৎস নেই। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে তার বিলাসবহুল বাড়ি আছে। ঢাকাতেও আছে তার দুটি বাড়ি এবং একটি ফ্ল্যাট। ১৫ বছর আগে তার ব্রিকফিল্ডের ব্যবসা ছিল। সবই হয়েছে অবৈধ আয়ের টাকায়। জীবনের শুরুতে মিজান ছিলেন হোটেল বয়। পরে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির মাধ্যমে তিনি অপরাধে জড়ান। ধীরে ধীরে চুরি, ছিনতাই, খুন-জখম, দখলদারিত্বসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

অবৈধ আয়ের অর্থেই তিনি টেক্সাসের বাড়ি কিনেছেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় পাঁচ ও ছয়তলার দুটি বাড়ি এবং একটি ফ্ল্যাট কেনেন। এছাড়া দেশে-বিদেশে নিজের ও আত্মীয়স্বজনের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ করেছেন। শুক্রবার মিজানকে গ্রেফতারের পর তার ঢাকার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র এবং ছয় কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

এদিকে মিজানের বাসা থেকে এফডিআর ও চেক উদ্ধারের ঘটনায় শনিবার তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে র‌্যাব। এই মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। শনিবার বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার ভোরে শ্রীমঙ্গলের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মিজানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় একটি অবৈধ পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও নগদ দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। তিনি সীমান্ত এলাকা হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনায় শনিবার শ্রীমঙ্গলে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেছে র‌্যাব।

আদালত সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিন আসামি মিজানকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মিজানের মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে দুটি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেক (প্রতিটি দুই কোটি করে মোট চার কোটি টাকা), একটি প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেক (দুই কোটি টাকা), একটি বেসিক ব্যাংকের চেক (৬ লাখ টাকা), একটি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের চেক (৫০ লাখ টাকা), একটি পূবালী ব্যাংকের চেক (দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা), একটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চেক (৫০ হাজার টাকা) উদ্ধার হয়। এছাড়া আল মক্কা স’মিলের এক লাখ টাকার একটি মানি রিসিট, প্রিমিয়ার ব্যাংকের এক কোটি টাকার এফডিআর’র কাগজ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুটি ব্যাংক থেকে মিজান ৬৮ লাখ টাকা তুলেছেন। এই টাকা নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। র‌্যাবের অভিযানে তিনি ধরা পড়লেও ওই টাকার বিষয়ে মুখ খোলেননি।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া এফডিআর এবং ব্যাংকের চেকে উল্লেখিত টাকার উৎস সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

এদিকে রিমান্ড আবেদনে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মিজান মোহাম্মদপুরে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। পেশিশক্তি ব্যবহার করে তিনি অবৈধভাবে ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন। তার অবৈধ আয়ের উৎস, টাকার হিসাব, কোন ব্যাংকে কত টাকা আছে, কত টাকা জমা করেছে, কত টাকা উত্তোলন করেছেন, কত টাকা পাচার করেছে, আরও কোনো ব্যাংকে এফডিআর এবং নগদ টাকা আছে কিনা, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে কী পরিমাণ অর্থ-সম্পদ আছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে রিমান্ড প্রয়োজন।

আদালত সূত্র আরও জানায়, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) আসামির রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। অপরদিকে আসামি পক্ষে মুরাদুজ্জামান মুরাদসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন।

শ্রীমঙ্গলে অস্ত্র আইনে মামলা : হাবিবুর রহমান মিজান উরফে পাগলা মিজানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে র‌্যাব। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় শনিবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল থানায় র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবদুল জব্বার বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। শুক্রবার ভোরে শ্রীমঙ্গলের গুহ রোডের লন্ডন প্রবাসী ফজলুর রহমানের বাসা থেকে তাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

শ্রীমঙ্গলের গুহ রোডের সেই বাসাটির নাম রহমান মঞ্জিল। সুনসান বাসাটিতে ৭০ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম তার বড় মেয়ে

19 total views, 1 views today

Comments

comments

Close