রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
ইসলামের কথা ওদের দেওয়া পরিচয় অনুযায়ী আমি একজন ‘জারজ!’ – রুম নাম্বার ৫০৬।

ওদের দেওয়া পরিচয় অনুযায়ী আমি একজন ‘জারজ!’ – রুম নাম্বার ৫০৬।


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/২০/২০১৯ , ১১:২০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ইসলামের কথা


ওদের দেওয়া পরিচয় অনুযায়ী আমি একজন ‘জারজ!’ – রুম নাম্বার ৫০৬

নিরাপত্তার স্বার্থেই আমার কিংবা ওদের পরিচয় আমি দিতে পারছি না। এজন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

তারিখটা ছিল : ১১-০২-২০১৯

মাগরিবের নামাজ পড়বো বলে অজু করে রুমে আসলাম, হঠাৎ চার-পাঁচজন ছেলে আমার রুমে এসে আমাকে শিবির সন্দেহে জেরা করতে থাকে। আমি বারবার বলছিলাম, আমি শিবিরের সাথে জড়িত নই। তবুও তারা মানলো না। আমি বললাম, সন্দেহ করছেন! ঠিক আছে, আমি হল ছেড়ে চলে যাচ্ছি। এই বলে আমার জিনিসপত্র গোছাতে থাকি।

কিন্তু বিধিবাম হলে যা হয়, ঠিক রাত বারোটার সময় ১০-১২ জন ছাত্রলীগের ছেলে আমার রুমে এসে হাজির। তাদের কারো কাছে ব্যাট, স্ট্যাম্প, লাঠি, বিদ্যুতের তারসহ অন্যান্য উপকরণ, যা দিয়ে তারা তাদের খায়েশ মেটায়! তাদের আগমন দেখে আমি বুঝতে পারছিলাম, আমার উপর বিপদ চলে আসছে। তারা আমাকে বলল, আপনি চলে যাচ্ছেন ভালো কথা, যাওয়ার আগে শিবির যারা করে তাদের নামগুলো দিয়ে যান। আমি চিন্তা করলাম আমার কারণে যেন কারো উপর বিপদ না আসে। তাই আমি জানলেও কারো নাম বলতে চাইছিলাম না। তখন কোন ভাবেই আমাকে দিয়ে নাম না লেখাতে পেরে জোর করে আমাকে তাদের রুমে (৫০৬, আবু বকর রাঃ হল) নিয়ে গেল।

এরপর রাত ১২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত একটানা আমার উপর চলতে থাকে অমানুষিক নির্যাতন। এমন কোন নির্যাতন নাই যেটা আমার উপর করা হয়নি। চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি, ব্যাট-স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো, বিদ্যুতের তার দিয়ে পেটানো, দুই হাত দিয়ে গলা টিপে ধরা, গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করা, এছাড়া বিভিন্ন ধরনের বহুজাতিক অত্যাচার চলতে লাগল।

একজন আমার আঙ্গুল কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল, কিন্তু অন্যজন তাকে এই বলে থামাল যে, ঐটা করিস না, প্রমাণ থেকে যাবে। যে রুমে নিয়ে আমাকে পেটানো হচ্ছিল, সেটার অবস্থান ছিল পাঁচতলায়, মারতে মারতে কয়েকজন আমাকে পাঁচতলা থেকে ফেলে দেওয়ার জন্য নিয়ে গেল। অন্য কয়েকজন এসে তাদের বাধা দেওয়ায় ওরা দমে গেল। যারা আমাকে ফেলে দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিল, তারা বলল, আমি যদি পড়ে গিয়ে মারা যাই, তবে তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবে।

যাই হোক, অবশেষে আমাকে ভোর চারটার পরে রুমে পাঠিয়ে দিলো। আমার মোবাইলের ডাটা অন করে ওরা মোবাইলটা রেখে দিল। ফজরের নামাজ পড়ে অন্য একটি মোবাইলের সাহায্যে আব্বুকে (নাম্বার মুখস্ত থাকায়) ফোন দিলাম। এছাড়া আমার তিনজন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করলাম। এর মধ্যে একজনের ছোটভাই ছিল ওদের দলের লিডার।

আমার আব্বু-আম্মু, বড় ভাই (যিনি আইআইইউসি ঢাকা ক্যাম্পাস থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করছে ২০১২ সালে) এবং ছোট ভাই আমার নাম্বারে ফোন দিতে থাকে। সকাল ৯ টার দিকে আবার আমাকে তাদের রুমে (টর্চার সেল) আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। মোবাইলে অনেকগুলো মিসকল দেখে আমাকে প্রশ্ন করলো, এতগুলো মিসকল কেন? তোরর বাড়ির লোকে কেমনে জানল? এই বলে আমার ব্যাগ এবং জিনিসপত্র চেক করতে থাকে।

এক পর্যায়ে আমার মেমোরি কার্ড, পেন-ড্রাইভ, সিম সহ আরো অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস তারা নিয়ে নেয়।

যারা যারা আমাকে ফোন দিল তাদেরকে লাউড স্পিকার দিয়ে ফোন দেওয়ার জন্য বলল।

প্রথমে আব্বুকে ফোন দিলাম।আব্বু ওদেরকে খুব অনুরোধ করল আমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা খুব খারাপ ব্যবহার করল আব্বুর সাথে। আর বললো, তুই জারজ সন্তান জন্ম দিয়েছিস (অর্থাৎ আমি জারজ সন্তান)।

38 total views, 9 views today

Comments

comments

Close