রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
আইন ও বিচার, প্রধান সংবাদ এমপি লিটন হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় ২৮ নভেম্বর।

এমপি লিটন হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় ২৮ নভেম্বর।


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/২০/২০১৯ , ৫:২৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আইন ও বিচার,প্রধান সংবাদ


এমপি লিটন হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় ২৮ নভেম্বর
১৯ নভেম্বর, ২০১৯

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার বিকfল ৩টার দিকে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আগামী ২৮ নভেম্বর এই মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এই যুক্তিতর্ক শুরু হয়। তবে প্রথম দিনে যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় আদালত মুলতবি ঘোষণা করেন। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার প্রায় ৩ ঘণ্টা আদালতে একে অপরের যুক্তিতর্ক খণ্ডান রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

এর আগে সকালে জেলা কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তায় হত্যা ঘটনার মুল পরিকল্পনাকারী হিসাবে অভিযুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব:) ডাঃ আবদুল কাদের খাঁনসহ অভিযুক্ত আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার অপর দুইজন আসামির একজন কসাই সুবল চন্দ্র রায় কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যান। এছাড়া আর এক আসামি চন্দন কুমার রায় এখনও ভারতে পলাতক রয়েছেন। তবে আসামি চন্দনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এছাড়া এ সময় মামলার সাক্ষী ও নিহতের স্বজনরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তিতর্ক শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) এ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার এজাহার, আসামি ও সাক্ষীদের স্বীকারোক্তি জবানবন্দি, অস্ত্র উদ্ধারসহ নানা দিক আলোকপাত করে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। যুক্তিতর্ক শেষে আগামী ২৮ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।

তিনি আরও জানান, আশা করছি, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের ফাঁসিসহ সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।

এদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ বলেন, ‘এমপি লিটনকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। এ মামলায় আসামি কাদের খাঁনকে ষড়যন্ত্র ফাঁসানো হয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে বিস্তারিত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। তারপরও মামলার রায় সন্তোষজনক না হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হবে বলেও জানান তিনি’।

আরও পড়ুন: মাদারগঞ্জে লবণ নিয়ে গুজব, মুহূর্তে লবণ উধাও

সরকারি কৌশলী (পিপি) শফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল এ মামলার প্রথম দফায় আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বাদী, নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ এ পর্যন্ত ৫৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। গত ৩১ অক্টোবর মামলার সাক্ষী গ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়। এছাড়া ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে কারাগারে থাকা আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি হয়।

প্রসঙ্গত : ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী। তদন্ত শেষে কাদের খাঁনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকে কাদের খাঁন গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া আসামি কাদের খাঁনের একান্ত সহকারী (পিএস) শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক আবদুল হান্নান, মেহেদি হাসান, শাহীন মিয়া ও আনোয়ারুল ইসলাম রানাও জেলা কারাগারে রয়েছেন।

এছাড়া লিটন হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র আইন মামলায় গত ১১ এপ্রিল আবদুল কাদের খাঁনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। লিটন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি অস্ত্রের মধ্যে একটি অস্ত্র কাদের খাঁন নিজে থানায় জমা দেন। একটি অস্ত্র ৬ রাউন্ড গুলিসহ তার নিজ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে অপর অস্ত্রটির সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

48 total views, 1 views today

Comments

comments

Close