সাংবাদিকতায় সাক্ষাৎকার গ্রহনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক নির্ণয়

সাংবাদিকতায় সাক্ষাৎকার গ্রহনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক নির্ণয়

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,আজকের পর্ব ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, ১১
ইদানীং পএপএিকা, ইউটুব, ফেইসবুক খুললেই দেখা যায় সাংবাদিকতায় সাক্ষাৎকারের ছড়াছড়ি, তাই আজ তরুন -তরুনী সাংবাদিক ভাইদের উদ্দেশ্যে আলোচনা করব।

কি হওয়া উচিৎ সাংবাদিকতায় – সাক্ষাৎকারের ধরন, এবং কোন বিষয় গুলো সাংবাদিকের জানা খুবই জরুরি।

সূচনা ঃ সাক্ষাতকার গ্রহনের কলাকৌশল অভিজ্ঞাতার মধ্য দিয়েই ভালো শেখা যায়। তবে এমন কিছু দক্ষতা আছে যা একজন সাংবাদিককে অর্জন করতে হয়।যে তথ্য রেফারেন্স বইয়ে আছে কিন্তু অন্য কোনও যায়গায় সহজলভ্য, সে সম্পর্ক রিপোর্টর কখনওই সাক্ষাতকারকে কোনও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন না।যতটা সম্ভব প্রস্তুতি নিয়ে সাক্ষাতকার নিতে যাওয়া ভালো।
মনে রাখবেন আপনি যদি কোনও শিল্পপতির সাক্ষাৎ নিতে যান তাহলে তার সম্পর্কে ডিরেক্টরি অব ডিরেক্টরস – এ খোঁজখবর নিন।।তার কোম্পানি সম্পর্কে খোঁজখবর নিন এবং তার মূল তথ্যসমূহ জেনে নিন।ওই শিল্প সম্পর্কে পুরনো বা নতুন তথ্য লাইব্রেরিতে প্রাপ্ত কাটিংস থেকে পাওয়া যেতে পারে।
এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে,অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও কোন ফালতু প্রশ্নের জবাব দিতেও প্রায়ই বিরক্ত হয় না।কারন তারা জানেন যে,রিপোর্টকে প্রকৃত তথ্য না দিলে তিনি একটি অসত্য ও ভুল সাক্ষাৎকারই কেবল রচনা করবেন। একটি সাক্ষাৎকার পটভূমি সম্পর্কে জেনে নেওয়ার পর সাক্ষাৎকারের সময় আপনি যে সকল প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন তা ঠিক করে নিন। সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া যখন চলবে তখন আপনি আপনার প্রশ্নপত্রের দিকে খেয়াল নাও দিতে পারেন। একটি প্রশ্ন আর একটি প্রশ্নের উদ্ভব ঘটাতে পারে এবং যিনি সাক্ষাৎ দিচ্ছেন তিনি তার নিজস্ব আগ্রহের ধারা অনুসারে কথা বলতে পারেন।

লক্ষ্য রাখতে হবে সাক্ষাৎদাতা প্রশ্নকর্তা কোন প্রশ্ন স্পষ্টতই এড়ানোর চেষ্টা না করলে তাকে তার কথা বলা থেকে বিরত করা উচিৎ নয়। তিনি যে কথা বলতে চাইছেন সেটা আকর্ষণীয় হতে পারে এবং আপানার প্রশ্নের থেকেও আকর্ষণীয় হতে পারে।কিন্তিু মনে রাখতে হবে, একটি সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হওয়ার আগে আপনি আপনার প্রশ্নের সবগুলো মিলিয়ে দেখুন তা থেকে কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বাদ গেল কিনা কিংবা জানার মতো কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অজানা থেকে গেল কি না। হয়তো সে প্রশ্নের উত্তরটি সাক্ষাৎদাতা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রায়ই দেখা যায় টিলিভিশন মাধ্যমের কিছু সাক্ষাৎকার গ্রহনকারীর কড়া কড়া প্রশ্ন থেকে কিছু তরুন সাংবাদিকের মধ্যে ধারনা সৃষ্টি হতে পারে যে, সাক্ষাৎকার পর্ব বুঝি খুবই তীক্ষ্ণ ও কঠোর হবে। মনে রাখতে হবে,টেলিভিশনের সাক্ষাৎগ্রহনকারী যার সাক্ষাৎকারীর একটি সুবিধা হলো যে, তার সাক্ষাৎকার কর্মের একটা বিরাট অংশ ক্যামেরার জন্য নির্ধারিত।কিন্তু টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের কৌশল সংবাদপএের জন্য সবসময় কার্যকর হয় না।

একজন সফল সাংবাদিক হতে হলে নিজের দিকে তাকান! নিজের সম্পর্কে এমন একটা কল্পনা করুন যে, কেউ একজন আপনার অফিসে এসে আপনাকে সেই সব প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করছে যে প্রশ্ন আপনি কাউকে করার জন্য পরিকল্পনা করছিলেন।এরকমটা হলে আপনার কি প্রতিক্রিয়া হবে, সেটা ভেবে নিয়েই আপনার প্রশ্নাবলী নতুন করে সাজাতে হব।
যে সকল লোককে আপনি প্রশ্ন করছেন তারা আপনার প্রশ্নের আগে কি করছিল সে সম্পর্কে চিন্তা – ভাবনা করা কিংবা তাদের সময়টা আপনি নেবেন সে সময়টা তারা কি করত তাদের জীবনের সেই অমূল্য সময় সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করতে হবে সাংবাদিককে।
সাক্ষাৎকার গ্রহনের প্রারম্ভেই সিধান্ত নিন, আপনার প্রশ্ন প্রত্যাক্ষ না পরোক্ষ হবে। একজন সাংবাদিককে অবশ্যই মনে রাখতে হবে কিছু কিছু মানুষ কড়া কড়া প্রত্যক্ষ প্রশ্নের ভাল জবাব দেন। যদি রিপোর্টর সাক্ষাৎদাতাকে আস্তে আস্তে তার প্রশ্নাবলী মূল পয়েন্ট নিয়ে আসতে পারেন, সেক্ষেএেও অনেক ভালো জবাব দেন।

# সফল একজন সাংবাদিক সাক্ষাৎকার পর্বের প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাংবাদিককে ঠিক করে নিতে হবে কোন দৃষ্টিভঙ্গিটি আপনার সম্ভাব্য রিপোর্টের জন্য হবে বেশি ফলদায়ক।

আজকাল অনেক প্রতিষ্ঠান জনসংযোগ কর্মকর্তাই তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার পক্ষে কথা বলে থাকেন। কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে আপনি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার কাছেই যাবেন।কোন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে ভয় পাবেন না। সংশয়ে ভুগবেন না।
একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, ওই সব শীর্ষ প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তি সংবাদপএে ভালো প্রচার চান,যেমন আপনিও তার সাক্ষাৎ নিতে চান। আপনি যদি বিনয়ী হন এবং ভালো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন তাহলে তারা তার ভাল জবাব দেবেন।

একজন সাংবাদিক অবশ্যই সাক্ষাৎকারন ব্যক্তিটির সময়ের মূল্য সম্পর্কে ধারনা রাখতে হব।খুবই ব্যস্ত একজন মানুষের কি প্রশ্ন করলে বা কতটুকটু প্রশ্ন করলে তিনি বিরক্তবোধ করবেন না তার স্পষ্ট ধারনা রাখতে হবে।প্রথমেই পরিস্কার করে জেনে নিতে হবে যে, কতখানি সময় দেবেন। তার অফিসে অপেক্ষা করার সময় তার সচিবকে জিজ্ঞাসা করুন।সচিব তার কর্তার সঙ্গে আলোচনা করে আপনার সঙ্গে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ক্ষন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিতে পারেন।
মনে রাখবেন সময় বুঝে আপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোই জিজ্ঞাসা করুন।!

আরও থাকছে পরের পর্বে

লেখক ঃ সৈয়দ শফিকুর
রহমান পলাশ
সভাপতি
মিরপুর প্রেসক্লাব
ঢাকা – ১২১৬.

     More News Of This Category

Our Like Page