1. admin@channel3bangla.com : channel 3 : channel 3
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

মুক্তিজোটের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আক্তার হোসেন মোল্লা
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১২২ বার পঠিত

২১শে ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীতে মুক্তিজোট সংবাদ সম্মেলন করে ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ ঘোষণা করে।

জাতির সূর্য সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করে মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ইশতেহার ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিচালনা বোর্ড প্রধান- মোঃ শাহজামাল আমিরুল, কন্ট্রোল বোর্ড প্রধান- মোঃ বদরুজ্জামান রিপন, কাঠামোগত সার্বক্ষণিক-মোঃ মজিবুল হক, কার্যকরী কমিটি ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ মুক্তিজোটের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংসদীয় আসনের প্রার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি ইশতেহার ঘোষণার সময় বায়ান্নো ও একাত্তরসহ এদেশের জন্য, সমগ্র দুনিয়ার জন্যে, সারা বিশ্বে যতো মানুষ মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একাত্ব হয়েছেন মুক্তিজোটের পক্ষ থেকে সকলকে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের শুভ্র শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে উল্লিখিত শুধু একটি ধারা, তথা আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও দাবি পূরণে একটি মাত্র অনুচ্ছেদ অর্থাৎ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের ৪র্থ ভাগ, ৩য় পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ ৬০-এর যথার্থ বাস্তবায়নই বর্তমানের রাজনৈতিক আশুকর্তব্য ঘোষণায় যথেষ্ট।

আবু লায়েস মুন্না আরও বলেন ইতিহাসগত সমর্থনে থাকা যে ‘স্বনির্ভর গ্রামব্যবস্থা’, যা প্রায় সর্বজনবিদিত ও দল-মত নির্বিশেষে সমর্থিত, উল্লিখিত ধারার সাথেই তা সম্পর্কিত। এদেশের ব্যাপক জনসমাজের আর্থসামাজিক উন্নয়ন উক্ত ধারার বাস্তবায়নের সাথে সম্পর্কিত এবং দল-মত নির্বিশেষে তা সমর্থিত।
ফলে-
আবহমান বাংলার ইতিহাস ও তার স্বাভাবিক রাজনীতি, অর্থনীতি তথা সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই নির্দিষ্ট যে রাজনীতি, আমাদের সাংস্কৃতিক সংগ্রামের পথে সেই জাতীয় অস্তিত্ব, অবস্থান ও সংগ্রামের প্রকাশ অর্থেই সর্বাগ্রে পবিত্র সংবিধানের ৬০ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন, যা আমাদের মূলনীতি ও রাজনৈতিক লক্ষ্যাংশের সাথে যুক্ত হয়ে প্রথম ও প্রধান দাবি হিসেবে ঘোষিত হচ্ছে।

অর্থাৎ (ক) রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বিকেন্দ্রীভুত কেন্দ্রীকরণ (Decentralised Centralisation)-এর সমাজ-কাঠামো প্রতিষ্ঠা মারফত স্থানিক শাসন (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান, চতুর্থ ভাগ, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ-৬০) ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতঃ আর্থ-সামাজিক তথা সাংস্কৃতিক অবস্থার বদল।

(খ) সবক্ষেত্রেই বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত উত্তরণ ও চেতনার সাথে জাতীয় বাস্তবতার সাযুজ্যপূর্ণতায় সকল নীতি গ্রহণ ও প্রতিষ্ঠা। অর্থাৎ “জ্ঞানে- বৈশ্বিক, প্রয়োগে- স্থানিক” তথা (Global Knowledge Local Act) শ্লোগানই মূলনীতি অর্থে গৃহীত এবং তা বাস্তবায়নে চাই ‘সচেতন সামাজিক শক্তি’ (Social Power with Knowledge)-এর শাসন প্রতিষ্ঠা।

সংবাদ সম্মেলনে সংবিধানের ৬০ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৩ দফা তুলে ধরেন আবু লায়েস মুন্না-

১. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে ইউনিয়ন পরিষদকে সকল সেবার কেন্দ্রবিন্দু করা।

২. উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে দেশীয় উৎপাদনে উৎসাহিত করাসহ সরকারী উদ্যোগে ইউনিয়ন ভিত্তিক শস্য বাজার গড়ে তোলা।

৩. বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে থাকা পোস্ট অফিসগুলোকে যথার্থ আর্থিক উন্নয়নে যুক্ত ও কর্মচাঞ্চল্য আনতে প্রযুক্তিগত সহায়তায় রেমিটেন্সের সর্বোচ্চ নির্ভরশীল মাধ্যমে পরিণত করা এবং প্রয়োজনীয় জনবল মারফত গ্রাম্য ঋণের দায়িত্ব প্রদান করা।

৪. ভুমি জরিপসহ কৃষকের যাবতীয় তথ্য যথাযথ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকের হাতে হাতে সহজে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।

৫. কৃষক-শ্রমিক-প্রবাসীদের জন্য বিমা ব্যবস্থা চালু করা এবং তাদের ন্যায্য সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।

৬. চা ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে অন্যান্য পেশাজীবীদের সাথে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা।

৭. রিক্সাসহ যে কোন শ্রমিকদের আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব যান্ত্রিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা

৮. বাজারদর ও একক পরিবারের জীবনমান বিবেচনায় শ্রমিকের নূন্যতম মজুরি নির্ধারণ করা।

৯. বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য বেকার ভাতা প্রচলন করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

১০. সকল ধরণের দক্ষতা উন্নয়নে উপজেলাভিত্তিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ শ্রমিক তৈরী করা।

১১. শিক্ষা গণমানুষের জন্য ফ্রি করে জীবনমান উন্নত করা ও সকল শিক্ষায়তনকে একই শিক্ষানীতির আওতায় এনে জাতীয় নাগরিক বোধের উন্মেষ ঘটানো এবং শিক্ষকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতকরণের সাথে সাথে শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল প্রকার দূষণ প্রক্রিয়া রোধ করা।

১২. তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসা সরঞ্জাম সহ ওষুধ ও ডাক্তার মনিটরিং-এর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

১৩. সকল গৃহহীনদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে উত্তরাধিকারীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।

১৪. সরকারী ও বেসরকারী চাকরিজীবীদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা সামঞ্জস্য পূর্ণ করা।

১৫. কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-সাংস্কৃতিক কর্মীদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে ট্রাস্ট গঠন করা ও ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী সংবাদ কর্মীদের বেতন ভাতা নিশ্চিত করা

১৬. পানি-বিদুৎ-গ্যাস বিলে নূন্যতম ইউনিট পর্যন্ত দরিদ্রদের জন্য ফ্রি করে আধুনিক জীবন নিশ্চিত করা।

১৭. টেন্ডার থেকে শুরু করে সরকারী সকল কর্ম এবং যাবতীয় চুক্তির ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি মারফত জন সম্পৃক্তকরণকে অবাধ করা।

১৮. জনবান্ধব ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনীতি শক্তিশালীকরণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং ব্যবসা ও কলকারখানার মুনাফায় শ্রমিকদের অংশীদার করার আইন পাশ করা।

১৯. নদী ও বনসহ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ এবং পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

২০. আইন, বিচার এবং প্রশাসন সহ রাষ্ট্রীয় সর্বক্ষেত্রে দলীয় নিপীড়ন ও সর্ব প্রকার দলবাজি বন্ধ করে জনগণের জানমাল রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তুলতে মর্যাদাপূর্ণ বেতন কাঠামোসহ আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইন প্রণয়ন করা।

২১. প্রযুক্তিরক্ষেত্রে দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করা।

২২. পথশিশু, বিকলাঙ্গ ও তৃতীয় লিঙ্গদের রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে দক্ষ জনগোষ্ঠীতে উন্নীত করা।

২৩. ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উপরোক্ত দফাসমূহ বাস্তবায়নে ‘ছড়ি’ প্রতীকে ভোট দিয়ে মুক্তিজোটের প্রার্থীদের জনগন বিজয়ী করবেন বলেও প্রত্যাশা করেন মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

www.channel3bangla.com

অফিস

মিরপুর-১০, শাহআলী প্লাজা, লিফট ১০,রুম নং-১১০৪

ঢাকা-১২১৬

Design By Raytahost